Summary
অর্থ: "অতঃপর যখন নামায শেষ হবে তখন তোমরা জমিনের বুকে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) অন্বেষণ করবে।" (সূরা আল-জুমুআ, আয়াত ১০)
মানুষ জীবনধারণের জন্য যেসব কাজ করে তাকে শ্রম বলে। মানুষ তার নিজের বেঁচে থাকার, অপরের কল্যাণের এবং সৃষ্টি জীবের উপকারের জন্য যে কাজ করে তা-ই শ্রম। মানুষের উন্নতির চাবিকাঠিই হলো শ্রম। যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী সে জাতি তত বেশি উন্নত। শ্রমের ব্যাপারে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন,
فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلُوةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ
অর্থ: "অতঃপর যখন নামায শেষ হবে তখন তোমরা জমিনের বুকে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) অন্বেষণ করবে।" (সূরা আল-জুমুআ, আয়াত ১০)
শ্রমের মর্যাদা
ইসলামে শ্রমের মর্যাদা অত্যধিক। শ্রম দ্বারা অর্জিত খাদ্যকে ইসলাম উৎকৃষ্ট খাদ্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং জীবিকা অন্বেষণকে ইবাদত হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এ প্রসঙ্গে মহানবি (স.) বলেন,
طَلَبُ كَسْبِ الْحَلَالِ فَرِيضَةٌ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ -
অর্থ: 'ফরজ ইবাদতের পর হালাল বুজি উপার্জন করা একটি ফরজ ইবাদত।' (বায়হাকি)
মানুষের কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহ এ পৃথিবীতে অফুরন্ত সম্পদ রেখেছেন। এ সম্পদগুলো আহরণ করতে হলে প্রয়োজন হয় শ্রমের। শ্রমের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোও আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টিগতভাবেই দান করেছেন। এগুলো হচ্ছে আমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তথা হাত, পা ও মস্তিষ্ক। এগুলোকে কাজে লাগাতে মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন- "তিনি তো তোমাদের জন্য ভূমি সুগম করে দিয়েছেন। কাজেই তোমরা এর দিক-দিগন্তে বিচরণ কর এবং তার দেওয়া রিযিক থেকে আহার কর।" (সূরা আল-মুল্ক, আয়াত ১৫)
আমাদের প্রিয় নবি (স.) শ্রমকে ভালোবাসতেন। তিনি নিজেও শ্রমে অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি শিশু বয়সে মেষ চরাতেন। বড় হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। হিজরতের পর মদিনার জীবনে তিনি বিভিন্ন যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। খন্দকের যুদ্ধে তিনি পরিখা খননে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। পরিশ্রমী ব্যক্তিকে আল্লাহ পছন্দ করেন।
মহানবি (স.) আরও বলেন, 'নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য আর নাই। আল্লাহর নবি দাউদ (আ.) নিজের হাতে কাজ করে খেতেন।' (বুখারি)
প্রিয় নবি (স.)-এর কন্যা হযরত ফাতিমা (রা.) নিজ হাতে জাঁতা ঘোরাতেন। আর এজন্য তাঁর হাতে জাঁতা ঘুরানোর দাগ পড়ে গিয়েছিল। এমনিভাবে তিনি নিজেই পানির মশক বয়ে আনতেন। এতে তাঁর বুকে দড়ির দাগ পড়েছিল। ঘরের সকল কাজ তিনি নিজে করতেন। নিজে ঝাড়ু দিতেন। সাহাবিগণ একদিন নবি করিম (স.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, কোন প্রকার উপার্জন উত্তম? নবি করিম (স.) জবাবে বলেন, 'মানুষের নিজ হাতের কাজের বিনিময় এবং সৎ ব্যবসায় থেকে প্রাপ্ত মুনাফা।' (সুনানে আহমাদ)
সর্বশ্রেষ্ঠ মানব প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নিজে এবং তাঁর সাহাবিগণ জীবিকার জন্য পরিশ্রম করতে লজ্জাবোধ করতেন না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা শ্রমজীবীদের প্রশংসায় বলেন, "এমন বহুলোক আছে যারা জমিনের দিকে ভ্রমণ করে ও আল্লাহর অনুগ্রহ খুঁজে বেড়ায়।" (সূরা আল-মুযযাম্মিল, আয়াত ২০)
ইসলামে শ্রমিকের মজুরি সাথে সাথে আদায় করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এ সম্পর্কে মহানবি (স.) বলেন, 'মজুরের শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি আদায় করে দেবে।' (বায়হাকি)
সুতরাং আমরা সবাই শ্রমের প্রতি মর্যাদাশীল হবো, নিজেদের কাজ নিজেরাই করব এবং আমরা নিজেরা স্বাবলম্বী হবো।
| দলগত কাজ: কী কী কাজ শিক্ষার্থী নিজেরা করতে পারে তার একটি তালিকা তৈরি করে শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন করবে। |
Read more